ফেসবুক মার্কেটিং বা যেকোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যাড চালানোর সময়, আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট বাজেট পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক চলে, কিন্তু যখন বাজেট আরও বাড়ানো হয়, তখন ফলাফল হঠাৎ কমে যেতে শুরু করে। এটা কেন হয়? এই অবস্থাকে বলা হয় “অ্যাড বাজেট ক্যাপ” বা “স্যাচুরেশন পয়েন্ট”
কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায় ?
আগে জেনে নিতে হবে অ্যাড বাজেট ক্যাপ কী?
অ্যাড বাজেট ক্যাপ হল সেই নির্দিষ্ট বাজেটের সীমা, যার উপরে গেলে আপনার অ্যাডের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে শুরু করে। এর কারণ ফেসবুকের অ্যালগরিদম সেই বাজেট অনুযায়ী আপনার অ্যাডকে সঠিকভাবে ডেলিভার করতে পারে না।
এই ক্যাপের উপরে গেলে যা ঘটেঃ
আপনার অ্যাড অডিয়েন্সের কাছে বারবার প্রদর্শিত হতে পারে, যা এড ফ্যাটিগ নামে পরিচিত।
সিস্টেম অতিরিক্ত বাজেট ব্যবহার করে ঠিকমতো পারফর্ম করতে ব্যর্থ হতে পারে।
“স্যাচুরেশন পয়েন্ট” কীভাবে কাজ করে?
এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে আপনার অ্যাড বারবার একই অডিয়েন্সের সামনে প্রদর্শিত হতে থাকে। ফলস্বরূপ:
অডিয়েন্স ক্লান্ত হয়ে যায় এবং অ্যাডে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
একই অ্যাড বারবার দেখালে এর কার্যকারিতা কমে যেতে থাকে।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায়:
নতুন অডিয়েন্স টার্গেট করুন বা আপনার এক্সিস্টিং অডিয়েন্সকে সেগমেন্ট করে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করুন।
নতুন অ্যাড কনটেন্ট, কপিরাইট এবং ভিজ্যুয়াল তৈরি করুন। একই অ্যাড বারবার দেখালে অডিয়েন্স আগ্রহ হারাতে পারে, তাই নতুনত্ব ধরে রাখা জরুরি।
হুট করে বেশি বাজেট না বাড়িয়ে, ২০-৩০% করে ধীরে ধীরে বাজেট বাড়ান এবং রেজাল্ট পর্যবেক্ষণ করুন।
ফেসবুকের ইনসাইট টুল ব্যবহার করে অডিয়েন্সের রিঅ্যাকশন, অ্যাড ফ্রিকোয়েন্সি, এবং রেজাল্ট মনিটর করুন। যদি দেখেন যে ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে গেছে, তখন বুঝতে হবে “স্যাচুরেশন পয়েন্ট” পৌঁছে গেছেন।
বাজেট বাড়ানো মানেই সবসময় ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায় না। আপনার ক্যাম্পেইন পরিচালনার সময় “অ্যাড বাজেট ক্যাপ” বা “স্যাচুরেশন পয়েন্ট” এর ওপর নজর রাখুন। ধাপে ধাপে বাজেট বাড়ান, নতুন অডিয়েন্স এবং নতুন কনটেন্ট তৈরি করে ক্যাম্পেইনকে নতুন করে চালু করুন।
তবেই আপনি আপনার অ্যাডের কার্যকারিতা ধরে রাখতে পারবেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফলাফল পাবেন ইনশা আল্লাহ।